ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট
আল মামুন ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় একটি সাধারণ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হারুনুর রশিদ খান মুন্নু মিয়া। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, সৎ এবং পরিশ্রমী। দুনিয়ার ভালো মন্দ বুঝার আগেই তিনি তার বাবাকে হারান এবং মায়ের আদর ভালোবাসায় বেড়ে উঠেন মুন্নু মিয়া। ১৯৫২ সালে হরিরামপুর ইব্রাহীমপুর হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে এস,এস,সি পাশ করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচ,এস,সি এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধাস্থান সহ এম,কম ডিগ্রি লাভ করেন। তার কিছু দিন পরে সে C, A পাশ করেন। ভালো চাকরি দিয়েই তিনি তার পেশা জীবন শুরু করেন। কিন্তু মালিক হওয়া যার সপ্ন, সে কেন অন্যের চাকর হয়ে থাকবে। ভালো বেতনের ভালো চাকরি হওয়া সত্যেও সপ্নপুরন এর জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। প্রেস ব্যবসা দিয়ে তিনি তার ব্যবসায়ী জীবন শুরু করেন। ব্যবসায় তার প্রধান মুলধন ছিলো মেধা, সত্যতা এবং পরিশ্রম। তারপরে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। খুব অল্পদিনেই তার ব্যবসা ব্যাপক প্রসার লাভ করতে থাকে। গ্রীক দিগবিজয়ী বীর আলেকজান্ডার যেমন যেদিকে গিয়েছেন সেই দিকই সে জয় করেছেন। তেমনি মুন্নু মিয়া যে ব্যবসায় গিয়েছে সেখানেই তিনি সফল হয়েছেন। খুব অল্পদিনেই চারদিকে তার ব্যবসায়ী সুনাম ছড়িয়ে পরে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখে রাজনীতির প্রতি উৎসাহিত হয় এবং দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার জন্য তার হাত ধরেই তিনি বি,এন,পির রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনি মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে থাকেন। তার সত্যতা, দক্ষতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখে বি,এন,পির নেত্রী তাকে এম,পির মনোনয়ন দিয়ে পাঠায় হরিরামপুর – শিবালয় এর জনগণের কাছে। হরিরামপুর – শিবালয় এর মানুষ তাকে চিনতে ভুল করে নাই। তার ভালোবাসার প্রতিদান তাকে দিয়েছন। পরপর দুই বার বিপুল ভোটে তাকে হরিরামপুর শিবালয় এর সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরে সাধারণ মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি পায়। সে তখন বৃহত্তর মানিকগঞ্জ এর উন্নয়ন এর দিকে নজর দেন। জেলার মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিক উন্নয়নের জন্য পশ্চিম মানিকগঞ্জে একে একে গড়ে তুলেন মুন্নু ফ্রেব্রিক, মুন্নু গার্মেন্টস, মুন্নু টেক্সটাইল সহ অনান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে প্রায় লক্ষাধিক লোক কাজ করার সুযোগ পায়। জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত করে আধুনিক মুন্নু জেনারেল হাসপাতাল। শিক্ষার মান উন্নয়ন এর জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ, মুন্নু ইন্টারনেশনাল স্কুল এন্ড কলেজ সহ অসংখ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা। জেলায় এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠন নেই যেখানে মুন্নু মিয়ার অনুদান দেন নাই। এতে খুশি হয়ে বি,এন,পির নেত্রী তাকে মানিকগঞ্জে দুটি আসনে একসাথে নির্বাচন করার অনুরোধ করেন। মানিকগঞ্জে ইতিহাস সৃষ্টি করে একসাথে দুটি আসনেই তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়। তার পুরুস্কার হিসাবে বি,এন,পি নেত্রী তাকে মন্ত্রী সভার সদস্য নির্বাচিত করেন। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও তিনি কোন দিন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, এবং মাদককে প্রশ্রয় দেন নাই। মানিকগঞ্জ জেলা বি,এন,পি যে দুই এক জন নেতার হাত ধরে জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী হয়েছে তার মধ্যে মুন্নু মিয়া অন্যতম। রাষ্টীয় ক্ষমতা পালাবদল এর বিভিন্ন সময়ে যখন অনেক নেতা, এম,পি ও ব্যবসায়ীরা পালিয়েছেন এবং বিভিন্ন দুনীতি মামলায় জেলে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘ রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী জীবনে এক দিনের জন্যেও তাকে আদালতে যেতে হয়নি। এই থেকেই বুঝা যায় যে, কেমন সরল ছিলো এই মানুষটির জীবন-যাপন। ব্যবসায়ী হিসাবে এবং ভালো মানুষ হিসাবে তার সুনাম বিশ্বব্যাপী। বিভিন্ন পুরুস্কারে ভুসিত হয়েছে বারবার। তার শত্রুরাও তার বিরুদ্ধে কোন দিন ঘুষ নেওয়ার,দুনীতি এবং অন্যায় অত্যাচার এর অভিযোগ করতে পারে নাই। পরিশেষে বলবো মানিকগঞ্জের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থা কর্মসংস্থান সহ এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে উন্নয়নে মুন্নু মিয়ার অবদান নাই। তিনি বিগত দিনে বি,এন,পির উপদেষ্টা পরিষদ এর একজন গুরুতপুর্ন সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মানুষ দোষ গুনের উদ্ধে নয়। কিছু রাজনীতিক বিরোধিতা ছাড়া তার কোন দোষ এযাবৎ কাল পর্যন্ত কেও খুজে পায় নাই। মানুষ মরনশীল তাই সেও হয়তো সবার মতো মারা গেছেন। কিন্তু দলমত,ধনী গরীব নির্বিশেষ মানিকগঞ্জ বাসীর হুদয়ে সে আজীবন বেছে থাকবে তার কর্মের জন্য। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসীব করেন।
Posted ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
Desh24.News | Azad