বুধবার ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
মানিকগঞ্জে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেকারি 

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশু খাবার

রামপ্রসাদ সরকার দীপু স্টাফ রিপোর্টার:   |   রবিবার, ০১ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট  

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশু খাবার

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেকারি ও কারখানা। এসব বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে শিশু খাবার। উৎপাদিত খাদ্যের গুনগতমান এবং পরিমাপ নিশ্চিকরণে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোনো নজরদারি। কারখানাগুলোতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে বিস্কুট, ক্রিমরোল, বনরুটি, সেমাই, কটকটি, বাটারবোন, ঘিটোস্ট, কেক, বাটারবন, পাউরুটি শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। কোন প্রকার পরীক্ষা, নিরিক্ষা ছাড়াই খাদ্যের মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ বেকারি কর্মরত শ্রমিকরা প্যাকেটে দিয়ে দিচ্ছে। জেলার প্রতিটি বেকারিতে শ্রমিকদের পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ বছরের কমলমতি শিশুদের কাজ করতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ বেকারি ও কারখানায় কোনো প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। উৎপাদিত খাবারেরমান নিয়ন্ত্রনকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টান্ডার্ডস টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন ও খাদ্য বিভাগের ছারপত্র নেই। নেই ট্রেড লাইসেন্স।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জে মোট ৭২টি বেকারি আছে। এর মধ্যে সদরে ১৮টি , সিংগাইরে ২২টি ঘিওরে ৫টি, শিবালয়ে ৩টি, দৌলতপুরে ৩টি, সাটুরিয়াতে ৩টি, হরিরামপুরে ১৬টি বেকারি রয়েছে। এসব বেকারির উৎপাদিত খাদ্যেরমান প্রণয়ন এবং গুনগতমান ও পরিবেশ নিশ্চিতকরনের কোনো প্রকারের ব্যবস্থা নেই। সরকারি নিয়মনীতি না মেনে স্যাতস্যাতে অন্ধকারচ্ছন্ন নোংরা, ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধো পরিবেশে নিম্নমানের উপকরন দিয়ে তৈরি বাহারি রকমের খাবার মেঝেতে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন বেকারিতে শিশু খাদ্য তৈরি করতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যাল, নিম্নমানের পাম তেল, আটা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকরা বিশেষ পোশাক ছাড়া খালি গায়ে খাবার তৈরি করছে। নোংরা অপরিস্কার কড়াই গুলোতে আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। প্রতিটি খাবারে আটা, ইস্, ডিম, ছোটা দেওয়া হয়। ডালডা ও চিনি দিয়ে তৈরিকৃত ক্রিম রাখার পাত্রগুলোতে তেলাপোকা, ঝঁাকে ঝঁাকে মশা মাছি ভনভন করছে। প্রতিটি খাবারে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিকাংশ বেকারির মালিকরা আইনের চোখকে ফঁাকি দিয়ে চটকদার মোড়কে নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে বাজারজাত করছে। প্রতিদিন হাট বাজার গুলোতে অটোবাইক ও ভ্যানে করে দিবারাত্রি খাদ্য সামগ্রীগুলো দোকানে দোকোনে পৌঁছে দিচ্ছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সকল প্রকার মুদি দোকানের পলিথিনের ভিতরে রাখা ক্রিমরোল, ডাইকেক, ছোট কেক, পাউরুটি, বনরুটি, পেডিস, ডেনিস, সিংগারা, লাড্ডুসহ বাহারি রকমের শিশু খাবার। সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয়, খাবারগুলো কবে উৎপাদন করা হয়েছে। কবে মেয়াদ শেষ হবে তার কোন উল্লেখ নেই।, বেকারির মালিকরা নিজেরাই উৎপাদন মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লেখা স্টিকার পণ্য সামগ্রী প্যাকেটে ভিতরে দিচ্ছেন।


মানিকগঞ্জের বিভিন্ন বেকারি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একটি বেকারিতে প্রায় ১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে ৫/৬ শিশু শ্রমিক। শিশু শ্রমিকদের বেতন ৩/৪ হাজার টাকা। শিশু শ্রম আইনত নিষিদ্ধঃ তার পরেও প্রতিটি বেকারিতে শিশুরা শ্রম দিচ্ছে। প্রতিটি শিশু রোগাকান্ত কঙ্কালসার। এদের বয়স ১০ থেকে ১৩ বছর। বেকারিতে থাকা খাওয়ার কোন পরিবেশ নেই। অন্যান্য শ্রমিকদেও বেতন ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকাল থেকেই তারা খাদ্য সামগ্রী তৈরি করেন। স্থানীয় লোকজন বলেন, মাঝে মধ্যে নাম মাত্র জড়িমানা করা হয়। অনেক সময়ে স্যানিটারী কর্মকর্তসহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা এসে ঘুরে চলে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্মনমানের উপকরন দিয়ে তৈরি করা এসব খাবার স্বাস্থের জন্য খুবই খারাপ ও ঝঁুকিপূর্ণ। খোলা বাজারের কোনো খাদ্য শিশুদের খাওয়ানো টিক নয়। ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। যা মানক দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলার বিভিন্ন বেকারিতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর রং কেমিক্যাল, দিয়ে তৈরিকৃত শিশু খাদ্যসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী তৈরি করা আইনত নিষিদ্ধ। আমি নতুন যোগদান করেছি। বেকারির তালিকা আমার অফিসে নেই। অভিযোগ পেলে এ সব বেকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মানিকগঞ্জ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক ফারহানা ইসলাম অজন্তা জানান, আমি ইতোমধ্যে তিনটি বেকারির মালিককে জড়িমারা করা হয়েছে। তবে আমাদের কার্য়ক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে জেলাকে কতটি বেকারি বা কারখানা আছে তা আমার জানা নেই।

 

 

Facebook Comments Box

Posted ১:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ জুন ২০২৫

Desh24.News |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
এম আজাদ হোসেন সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

শ্রীসদাস লেন,বাংলাবাজার , ঢাকা-১১০০/ ঘিওর, মানিকগঞ্জ।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০১৯১১৪৭৭১৪১/০১৯১১২২৭৯০৭

E-mail: infodesh24@gmail.com